Hotline: +8801729070571
Welcome to the official website of BRAC Institute of Skills Development (BRAC-ISD)
রফিকুল ইসলামের অভাবনীয় সাফল্য

রফিকুল ইসলামের অভাবনীয় সাফল্য

কুষ্টিয়ার ছেলে রফিকুল ইসলাম। ঢাকা কলেজ থেকে রসায়নে এম.এ পাশ করার পর হন্য হয়ে চাকরির পেছনে ঘুরলেও এখন তিনি আর চাকরির চিন্তাই করেন না। শুরুতে একটা ঔষধ কোম্পানিতে চাকরি করেছেন। তারপর যান, ইংল্যান্ডে পড়তে। কিন্তু ওখানে পড়াও হলো না, থাকাও হলো না। ফিরে এসে ব্যবসা করতে গিয়েও ব্যর্থ হলেন। এর মধ্যে তিনি বিয়ে করেছেন। সংসারে মা,বাবা, স্ত্রী ও এক সন্তানের ভরণ পোষণ নিয়ে চিন্তায় পড়েন। এসময় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (BRAC-ISD)-এর ফ্রি সেমিনারে এসে উদ্বুদ্ধ হন। ভর্তি হয়ে যান, গ্রাফিক ডিজাইনের এডভ্যান্স কোর্সে। তারপর রফিকুল ইসলামকে আর পেছন ফিরে তাকতে হয়নি। BRAC-ISD -এর আউট সোর্সিং এর ক্লাসের দিনে একটি একাউন্ট খুললে কয়েক দিনের মধ্যে কাজ পেয়ে যান তিনি। তারপর থেকে রফিকুল ইসলাম দিন রাত অন লাইনে কাজ করছেন আর আয় করছেন। তিনি প্রথম ১৫দিনে ১৬ হাজার টাকার কাজ করেন। এভাবে চললে তাঁর ধারণা, মাসে ৪০/৫০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। এখন রফিকুল ইসলামের ইচ্ছে, অনলাইনে কাজ করার একটি প্রতিষ্ঠান দেওয়া।

৪৬ বছর পেরিয়ে ব্র্যাক

৪৬ বছর পেরিয়ে ব্র্যাক

২৭ মার্চ ব্র্যাক ডে।
প্রতিবছরের মতো এবছরও নানান বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে ২৭ মার্চ ব্র্যাক ডে পালিত হচ্ছে। ব্র্যাক ডের এই আনন্দঘন দিনে আমরা আমাদের সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিল্প-কারখানার মালিক, উন্নয়ন সহযোগী, পৃষ্ঠপোষক, শুভানুধ্যায়ীদের জানায় আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
১৯৭২ সালে স্বাধীনতোত্তর যুদ্ধ বিদ্ধস্ত বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে স্বল্প পরিসরে ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের মধ্য দিয়ে কার্যক্রমের সূচনা ঘটলেও ব্র্যাক বর্তমানে বিশে^র সর্ববৃহৎ উন্নয়ন সংস্থায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে এই সংস্থাটি উন্নয়ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের লক্ষে বিভিন্ন ধরনে উদ্যোগ গ্রহণ করে বর্তমানে বাংলাদেশসহ এশিয়া ও আফ্রিকাভুক্ত পৃথিবীর ১১টি দেশে কর্মসূচি বাস্তবায়িত করছে এবং দরিদ্র মানুষের সম্ভাবনার বিকাশে নেতৃত্ব প্রদান করছে। জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভৌত ও মানবিক সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষদের সংগঠিত করে তাদের জীবনে ব্র্যাক স্থায়িত্বশীল পরিবর্তন নিয়ে আসছে। তাদের জীবনে এমন একটি পরিপাশর্^ গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে দরিদ্র মানুষ তাদের নিজস্ব জীবনের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। উন্নয়নের সামগ্রিক কর্মকৌশলে ক্ষুদ্র ঋণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা এবং জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন প্রভৃতি ক্ষেত্রে সকলকে অন্তর্ভুক্ত করার ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। ব্র্যাকের কর্মীদল এবং এই সংস্থার হতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত লাখো উদ্যোক্তাকে নিয়ে ব্র্যাকের কর্মধারা বর্তমানে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশের মানুষের জীবনকেও স্পর্শ করেছে এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়ে নানান পরীক্ষা নিরিক্ষার মাধ্যমে ভুল ভ্রান্তিগুলো দূর করে অল্প খরচে এবং দক্ষতার সঙ্গে ব্র্যাক তার কাজের পরিধির দ্রুত বিস্তার ঘটিয়ে যাচ্ছে।
ব্র্যাক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি ২০১৫ সাল থেকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চত কল্পে দক্ষতার ব্যবহার এবং আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ৫ লক্ষ তরুণের জন্য যথাযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। বিশেষত নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ব্র্যাক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ননীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কর্মদক্ষতা ভিত্তিক ব্যবস্থা করে। যুবসম্প্রদায় যাতে উপযুক্ত কাজ পায় সে জন্য শিক্ষানবিশি, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রশিক্ষণ, বাণিজ্যিক-উদ্যোগ উন্নয়নের মাধ্যমে ব্র্যাক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি যথোপযুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির নানামুখি প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।
এ প্রয়াসের অংশ হিসাবে ব্র্যাক ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেছে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট । মূলত দক্ষ কর্মী তৈরির মাধ্যমে ভালো চাকরি, বেশি আয়, মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে ব্র্যাক ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ননীতি অনুসরণ করে বিশ্বমানের সর্বাধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক স্বীকৃত, জাতীয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক যোগ্যতা কাঠামো এর আওতায় যোগ্যতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন এর মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে। এখানে উল্লেখ করা দরকার , জাতীয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক যোগ্যতাকাঠামো জাতীয়ভাবে সঙ্গতিপূর্ণ একটি পদ্ধতি’। এর একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো‘জাতীয়ভাবে স্বীকৃত যোগ্যতার (কোয়ালিফিকেশনের) মান উন্নয়ন এবং ধারাবাহিক উৎকর্ষ সাধন করা’। এছাড়া‘যত দিন কাজ করবেন, ততদিন এবং তারপর ও কর্মীদের জ্ঞান ও দক্ষতা যাতে ক্রমশ বাড়তে থাকে সে লক্ষ্যে তাদের জীবনব্যাপীশিক্ষা ও উন্নতির জন্য স্বীকৃত পথ তৈরি করা।’কারণ আমরা জানি, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা অবশ্যই শিল্প এবং সমাজের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চলবে।’এছাড়া আমরা এ জানি, দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা অবশ্যই শিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যৎচাহিদার প্রতি দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম হবে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে সক্ষমতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা’হয়েছে। এর ফলে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট এর প্রশিক্ষণার্থীরা পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নপ্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিরাপদ কর্ম পরিবেশ, শিল্পকারখানার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং শিল্প কারখানার নিয়ম-নীতি বিষয়ে ধারণা লাভ করবে।

জাফর আহমেদ এখন নিজেকে ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে পরিচয় দিতে পারে

মাদারীপুরের ছেলে জাফর আহমেদ। ছয় বোনের এক ভাই। বড়ই আদরের। বাবা কৃষি কাজ করেন। চোখে-মুখে অপার স্বপ্ন। বড় হয়ে বিরাট মাদারীপুরের ছেলে জাফর আহমেদ। ছয় বোনের এক ভাই। বড়ই আদরের। বাবা কৃষি কাজ করেন। চোখে-মুখে অপার স্বপ্ন। বড় হয়ে বিরাট কিছু হবে। আরো অনেকের মতো জাফরেরও লক্ষ্য হলো বড় হয়ে একজন সফল ইঞ্জিনিয়ার হবে। বড় চাকরি করবে। ভালো চাকরি করে টাকা জমাবে। তারপর নিজের ব্যবসা শুরু করবে। জাফরের পরিবারের ইচ্ছে যে করেই হোক একমাত্র ছেলেকে বড় কিছু করতে হবে। সে যেন পরিবারের সম্মান আরো বাড়াতে পারে। বিশাল এক স্বপ্ন আর বুক ভরা আশা নিয়ে জাফর ২০০৫ সালে ঢাকা আসে। খিলগাঁও চাচার বাসায় উঠে। উদ্দেশ্য ইঞ্জিনিয়ার হবে। কিন্তু জাফর এবং পরিবারের স্বপ্ন আর প্রত্যাশাকে হার মানতে হয় অর্থের অনটনের কাছে। অচিরেই জাফরের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়।
জাফর ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভর্তি হতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়ে। অবশেষে সে ভর্তি একটা ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হয়। কিন্তু এখানে ডা শিখল তাতে জাফরের মন ভরলো না। সে নিজেই বুঝতে পারল, এ লেখাপড়া দিয়ে কখনও ভালো চাকরি বা বড় চাকরি পাওয়া যাবে না। ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে কলমে যে শিক্ষা দরকার, তা সে কিছুই শিখতে পারেনি। মনে হতে লাগল, এতোদিনের লেখাপড়াটা পুরোটাই বুঝি পানিতে গেল। এসব কথা সে বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করত। আর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করত। এ সময় একদিন এক বন্ধুর মাধ্যমে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (BRAC-ISD) এর কোর্সের কথা জানতে পারে। বন্ধুর মুখেই শুনে, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (BRAC-ISD) তে কারিগরি বিষয়ে হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। আবার কাজ শেষে চাকরিরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। পুরো ব্যাপারটায় জাফরের কাছে নতুনত্ব মনে হলো। সে একদিন ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (BRAC-ISD) তে আসে। এখানে দেখে ২য় ব্যাচের ক্লাস চলছে। কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলাপ করে এর সত্যতা নিরুপন করে। তারপর সে এখানে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (BRAC-ISD)-তে ৩য় ব্যাচে রেফ্রিজারেশন এ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং এ ভর্তি হয়। এখানে সে হাতে কলমে কলমে করে সব কাজ শিখে। প্রতিদিন নতুন নতুন বিষয়ে ধারণা লাভ করে। এসব সম্পর্কে জাফরের এতোদিন তাত্তি¡ক ধারণা ছিল। বর্তমানে সে হাতে কলমে শিখে সার্বিক জ্ঞানার্জন করেছে। অনেক ভুলে যাওয়া বিষয় আবার মনে করতে পেরেছে। হাতে কলমে শেখার কারণে আর ভুলার সম্ভাবনা থাকল না। ৩ মাসের প্রশিক্ষণ শেষে এখন সে নিজেকে একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে পরিচয় দিতে আর ভয় পাই না। এর মধ্যে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (BRAC-ISD) থেকে জাফরের জন্য একটা চাকরির ব্যবস্থা করা হয়। জাফর আহমেদ ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (BRAC-ISD) এর ব্যবস্থাপনায় এ.সি. ওয়ার্ল্ডের ভিআরভি প্রজেক্টে চাকরিতে যোগদান করে। শুরুতেই এখানে তাকে ৭ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে জাফরের হতাশা অনেকাংশে কেটে গেছে। সে এখন বলে, ‘অন্যের অধীনে বেশিদিন চাকরি করব না। আমার ইচ্ছে নিজে কিছু করব। চাকরিতে মৌলিক স্বাধীনতা থাকে না। কিছুদিন চাকরি করে টাকা জমাবো। তারপর নিজে একটা ব্যবসা শুরু করব। এতে নিজে ভালোভাবে চলতে পারব আবার অন্যকেও সহযোগিতা করতে পারব।’ জাফর ৫/৭ বছর চাকরি করবে। তারপর ব্যবসার কথা ভাববে। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (BRAC-ISD) সম্পর্কে সে বলে, এখানে অনেক কিছু শেখানো হয়। হাতে কলমে শেখানো হয়। কোর্সে অতিরিক্ত হিসাবে সফট স্কিল এবং ডিসেন্ট ওয়ার্ক সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হয়, আমি মনে করি এসব কিছু পরবর্তীকালে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনেও কাজে লাগবে। এক কথায় এখানে আসলে বিফল হবে না। ’

ফাহমিদা তাসনিম ব্র্যাকে শিখে এখন ব্র্যাকে শিখাচ্ছে

টাঙ্গাইলের মেয়ে ফাহমিদা তাসনিম। বিবিএ করেছে। কিন্তু তাতে কি চাকরি তো কোথাও হয় না। নানান জায়গায় চেষ্টা করেছে। কোথাও হলেও পছন্দ হয় না। ফাহমিদার শ্বশুড় তাকে পরার্মশ দেন ভিন্ন কিছু করার। নতুন কিছু করলে হয়ত সে সফলতা লাভ করবে। ফামিদা এই ভিন্ন কিছু আর নতুন কিছুর সন্ধান করতে থাকে। এসময় ফামিদার শ্বশুড় বলেন, কারিগরি প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হতে। তাঁর কাছে শুনেন, এর মাধ্যমে নতুন কিছু করা সম্ভব। ভালো চাকরি, বেশি আয়, মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপন নিশ্চিত করতে হলে এর বিকল্প নেই। সরকার জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি ২০১১ প্রণয়ন করেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষানবিশি, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। সরকারের পাশাপাশি অনেক বেসরকারি সংস্থাও কাজ করছে। ফামিদা তাসনিম এসব কিছু প্রতিনিয়ম শ্বশুড়ের কাছে শুনে আসছে। মূলত শ্বশুড়ের আগ্রহ এবং উৎসাহে ফামিদা তাসনিম বিবিএ পাশ করে অনেকদিন চাকরির অপেক্ষায় থেকে অবশেষে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে সম্মত হয়। তারপরই শুরু হয় কোথায় ভর্তি হবে। সেটাও সম্ভব হয়ে শ্বশুড়ের প্রচেষ্টায় তিনি একদিন ফামিদা তাসনিমকে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (BRAC-ISD) এর খবর দেন। সুইং মেশিন অপারেশন কোর্সে সে ভর্তি হয়। ফামিদা বলেন, ভর্তি হওয়ার পর প্রথম কয়েকদিন মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়েছিল। তারপর সব ঠিক হয়ে যায়। পরে ধীরে ধীরে ভালো লাগে। ফামিদা ইতিমধ্যে এখানে এসেই জেনে যায়, দক্ষ কর্মী তৈরির মাধ্যমে ভালো চাকরি, বেশি আয়, মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপন নিশ্চিত করতে ব্র্যাক ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট কাজ করেছে। এছাড়া, ‘দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা অবশ্যই শিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদার প্রতি দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম হবে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে সক্ষমতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর ফলে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট এর প্রশিক্ষণার্থীরা পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিরাপদ কর্ম পরিবেশ, শিল্প কারখানার সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং শিল্প কারখানার নিয়ম-নীতি বিষয়ে ধারণা লাভ করবে। এসব তথ্য জেনে ফামিদা তাসনিম খুব আপ্লুত হয়। সে লক্ষ্য করেছে, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (BRAC-ISD) এর এসব বক্তব্য শুধু কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ না। এসব কিছু স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তখন মূলত এ ব্যাপারে তার আগ্রহ ক্রমাগত বাড়তে থাকে। তখন সে মনে মনে ঠিক করে সুইং মেশিন অপারেশন কোর্সে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এ বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এ খাতের উন্নয়নে মনোনিবেশ করবে। ফলে সে মনোযোগ সহকারে ৩ মাসের লেবেল-১ কোর্স সমাপন করে। কোর্স শেষ করে ফামিদা নিজেকে সুইং মেশিন অপারেশন কোর্সে প্রশিক্ষক হিসাবে ইচ্ছেপোষণ করে। এ লক্ষ্যে সে সক্ষমতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন (ঈইঞ্অ) এর লেবেল-৪ কোর্স সম্পন্ন করে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (BRAC-ISD) এ প্রশিক্ষক হিসাবে যোগদান করে। এ জন্য সে খুব খুশি।
ফামিদা তাসনিম বলল, ব্র্যাকে শিখে এখন ব্র্যাকে শিখাচ্ছি। সে তার এই সফলতার জন্য তার শ্বশুড়ের পাশাপাশি ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (BRAC-ISD) এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। সে বলে, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট -এ শুধু কারিগরি শিক্ষায় প্রদান করা হয় না, এখানে ডিসেন্ট ওয়ার্ক এবং সফট স্কিল সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হয়, যার মাধ্যমে নিজেকে একজন সফল দক্ষ কর্মী হিসাবে গড়ে তোলার দিক নির্দেশনা পাওয়া যায়।

স্বপ্ন পূরণের পথে আল-আমীন

কুমিল্লার ছেলে আল-আমীন। বয়স আঠার বছর। চার ভাই, দুই বোন আর মা-বাবার সঙ্গে আল-আমীন বেড়ে ওঠে মনে অপার স্বপ্ন নিয়ে। আল-আমীন মনে মনে স্বপ্ন দেখে বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে। স্বাধীনভাবে কাজ করবে। দেশের সেবা করবে। আল-আমীন ছোটবেলা থেকে খুবই স্বধীনচেতা। সে পরাধীন থাকতে চায় না। তাই চাকরি তার অপছন্দ। তার কাছে চাকরি মানে অন্যের অধীন থাকা। অন্যের নিদের্শ নেমে চলা। আল-আমীর চাকরির বাধা ধরা নিয়ম থেকে বেরিয়ে এসে নিজে স্বাধীনভাবে কিছু করার স্বপ্নে বিভোর থাকে।

এস.এস.সি পরীক্ষার সময়ে আল-আমীনের পিতার মৃত্যু হয়। মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পরে। অচিরেই আল-আল-আমীনের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। আল-আমীন ধৈর্য্য হারায় না। সে এস.এস.সি. পরীক্ষা দেয়। পাশ করে। এইচ.এস.সি. পাসও করে। ইঞ্জিনিয়ারিংসহ নানান জায়গায় ভর্তি পরীক্ষা দেয়। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভর্তি হওয়া আর হলো না। এবার আল-আমীন কিছুটা দিশেহারা হয়ে পড়ে। আল-আমীন ঢাকা চলে আসে। সালটা হলো ২০১৩ ইংরেজি। আল-আমীন সরকারি বাংলা কলেজে অর্থনীতির অনার্সে ভর্তি হয়। লেখাপড়া করছে ঠিকই কিন্তু স্বপ্নভঙ্গের বেদনা ওকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। আর ভাবছে কি করে স্বপ্ন পূরণের পথে যাত্রা করা যায়।

আল-আমীন একদিন সত্যি সত্যি আলোর দিশা পেয়ে যায়। আল-আমীনের বাসায় আসেন বড় ভাইয়ের এক বন্ধু। তিনি ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (BRAC-ISD)এর একজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক। তিনি নানান আলাপ প্রসঙ্গে আল-আমীনকে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (BRAC-ISD)এ ভর্তি হতে বলেন। আল-আমীন যেন হাতে চাঁদ পেয়ে গেল। ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভর্তি হতে পারল না তাতে কি। এ বিষয়ে লেখাপড়া করার বিকল্প সুযোগ তো পেয়ে গেছে। আল-আমীন পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (BRAC-ISD)এ রেফ্রিজারেশন এ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং কোর্সে প্রথম ব্যাচে ভর্তি হয়ে গেল। হাতে কলমে কাজ শিখতে পারলে স্বপ্নপূরণ সম্ভব হবে। আল-আমীন এখানে তিনমাস মনযোগ সহকারে রেফ্রিজারেশন এ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং বিষয়ে হাতে কলমে কাজ শিখে। সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করার পর ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (BRAC-ISD) আল-আমীনকে একটা ওয়ার্কশপে চাকরি প্রদান করে। এর কিছুদিন পর ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (BRAC-ISD) এর সহযোগিতায় আল-আমীনের আরেকটা চাকরি হয় কামাল রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে। এখানে তার বেতন ধরা হয় ১৫ হাজার টাকা।
আল-আমীন পরিবারে কিছু টাকা সাহায্য করে। বাকী টাকা সঞ্চয় করে। তার কথা, আমি এখন আবার আমার ছোটবেলার স্বপ্নে ফিরে গেছি। আল-আমীন বেশিদিন চাকরি করতে চায় না। সে নিজেই দোকান দেবে। ব্যবসা করবে। এখন সে কাজের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসা শিখছে। ৫/৬ বছর চাকরি করবে, তারপর ফিরে যাবে কুমিল্লা। নিজ শহরে গিয়ে ব্যবসা শুরু করবে। লোক রাখবে। দেশের মানুষের সেবা করবে। নিজের পায়ে দাঁড়াবে। আল-আমীন বলে, নিজের ব্যবসায় নিজের মতো করে মানুষের সেবা করতে পারব। আল-আমীন বলে, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব স্কিলস ডেভেলপমেন্ট (BRAC-ISD)এর সহযোগিতায় আমি আমার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।

Story of Jafar Ahmed

Story of Jafar Ahmed

Jafar Ahmed is working as a refrigeration and air-conditioning (RAC) mechanic at a reputed organization. He is enjoying his happy, peaceful, and settled life. His life was not so smooth before. Without a job he was distressed, anxious and had nothing to support his big family. Brac ISD rescued him from this depression, provided him good training and managed a job for him. Life became beautiful for Jafar.